ড্যানোনের প্রধান

জনবিন্যাসের পরিবর্তনে সংকটের মুখে খাদ্য শিল্প

জনবিন্যাসগত পরিবর্তন, ভোক্তা রুচির রূপান্তর ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কারণে এক ধরনের সংকটের মুখোমুখি খাদ্য শিল্প।

জনবিন্যাসগত পরিবর্তন, ভোক্তা রুচির রূপান্তর ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কারণে এক ধরনের সংকটের মুখোমুখি খাদ্য শিল্প। সম্প্রতি এফটির সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেছেন দই প্রস্তুতকারক কোম্পানি ড্যানোনের প্রধান নির্বাহী অঁতোয়ান দ্য সাঁত-আফরিক।

তিনি বলেন, ‘আপনি শুধু জনবিন্যাসগত পরিবর্তনের দিকেই তাকান। দেখবেন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের অনেকেরই স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। এরপর দেখুন স্বাস্থ্যের ওপর খাদ্যের কী প্রভাব পড়ছে এবং বিজ্ঞান কী বলছে।’

ড্যানোনের শীর্ষ পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যাক্টিভিয়া দই ও ইভিয়ান পানি। নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রতি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক বিনিয়োগ করছে ফরাসি কোম্পানিটি। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও বিশেষায়িত পুষ্টি ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

সাঁত-আফরিক বলেন, ‘অনেক রোগেরই কারণ হলো মাইক্রোবায়োমের (দেহে থাকা অণুজীবসমষ্টি) অযত্ন, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ও খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্যের অভাব। সঠিকভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে খাদ্য প্রস্তুত হলে তা স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কথাই আমরা সবসময় প্রচার করে আসছি।’

স্থূলতা ও খাদ্যে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। এর সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম সংগতিপূর্ণ বলেও জানান ড্যানোনের সিইও। খাদ্যে চিনির পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিম রঞ্জক সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে তারা।

গত বছর ড্যানোন গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রায় ৫০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা এ ব্যয় অব্যাহত রাখবে। একই বছরে ফ্রি ক্যাশ ফ্লো অর্জনে রেকর্ড করেছে তারা।

সুইস চকোলেট প্রস্তুতকারক ব্যারি ক্যালেবো থেকে চার বছর আগে ড্যানোনে যোগ দেন অঁতোয়ান দ্য সাঁত-আফরিক। ওই সময় খাদ্যপণ্য কোম্পানিটি গভীর সংকটে ভুগছিল। বিনিয়োগকারীদের চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন আগের প্রধান নির্বাহী এমমানুয়েল ফাবের। বিক্রি কমার পাশাপাশি ড্যানোনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ছিল স্থবির। পরিচালনা পর্ষদও ছিল বিভক্ত।

অঁতোয়ান দ্য সাঁত-আফরিক যোগ দেয়ার পর পোর্টফোলিও নতুনভাবে পুনর্গঠন করে ড্যানোন। লাভজনক নয় এমন পণ্য বন্ধের পাশাপাশি কিছু অংশও বিক্রি করে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন দুধ ব্র্যান্ড হরাইজন অর্গানিক বিক্রি। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করা হয়।

এছাড়া পরিচালনা পর্ষদও প্রায় পুরোপুরি বদলে ফেলে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে মার্জিন অর্জনের লক্ষ্য বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেন সাঁত-আফরিক।

ড্যানোন এখন ধারাবাহিক বিক্রি বৃদ্ধির পথে ফিরেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিক্রি বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। নেসলে, ইউনিলিভার ও পেপসিকোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পুঁজিবাজারে ভালো করছে ড্যানোন। চলতি বছরে শেয়ারদর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে কোম্পানির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ইউরো।

আরও